
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আদালতের নির্দেশনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ফজলুর রহমানের পরিবার। প্রায় এক বছর ধরে নিজ বাড়িছাড়া অবস্থায় থাকায় পরিবারটি এখন মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতির জেরে পরিবারটি তাদের পৈত্রিক ভিটায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছে না। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
আইনজীবীদের মতে, কাউকে তার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন আইনজীবী বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির আইনগত সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যথাযথ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরও পরিবারটি কেন এখনো নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। তাদের দাবি, তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা ভয়ভীতি ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারে।
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “একটি পরিবার যদি নিজের ভিটেমাটিতে নিরাপদে থাকতে না পারে, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কার্যকর সহায়তা পাননি। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘ সময় বাড়িছাড়া থাকার কারণে পরিবারটির শিশু ও নারীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানা গেছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ অবস্থায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আদালতের রায়ের বাস্তবায়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন ফজলুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা। তাদের একটাই প্রত্যাশা—নিজেদের পৈত্রিক ভিটায় নিরাপদে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন