নিজস্ব প্রতিবেদক ফরিদপুর
ফরিদপুর আদালতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী মোঃ শাহীন মীর (৩৪)–কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি শাহীন মীর মালত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশি প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীর মালতের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে ২০২১ সালে স্মৃতির পরিবার প্রায় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়। এরপরও আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাতের কোনো এক সময় যৌতুকের টাকার জন্য স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে মরদেহ ঘরের চৌকিতে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ৩১ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুজন বিশ্বাস আদালতে শাহীন মীর মালতকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে যৌতুকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং এমন অপরাধ দমনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন