রেজাউল করিম,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা জাহানারা বেগম ও তার শিশু কন্যা সামিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোতয়ালী থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৫৮, তারিখ ১৫ মে ২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের মামলার বাদী মো. লালন মোল্লা (৬৫), শিবালয়, মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার কর্ণসোনা এলাকার আমজাদ শেখের স্ত্রী।
প্রথমদিকে মামলার আসামি অজ্ঞাত থাকলেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে উজ্জ্বল খানকে শনাক্ত করে। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বল খান (৩৮) রাজবাড়ী জেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের বকাটিলা খাসেরকুল এলাকার মৃত শাজাহান খানের ছেলে।
পরে কোতয়ালী থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখে রাজবাড়ীর বকাটিলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৪ মে ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে উজ্জ্বল খান মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জাহানারা বেগমকে কোতয়ালী থানাধীন চর মাধবদিয়া কালীতলা এলাকায় শামসুল মোল্লার পুকুরপাড়ের একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বের সম্পর্ক ও বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে উজ্জ্বল খান প্রথমে জাহানারার বুকে আঘাত করে এবং পরে গলা টিপে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় শিশু সামিয়া চিৎকার শুরু করলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি থেকে কোদাল এনে পুকুরপাড়ে গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেয়। পরে ঘটনাস্থল কলাগাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখে যাতে কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারে।
পরবর্তীতে ১৪ মে বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও শিশুর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।
মন্তব্য করুন