
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক আজকের সকালের কণ্ঠ
দেশের জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুচ্চালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে দ্রুত ও সহজে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার অ্যাম্বুলেন্স সেবার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে কাজ করছে। প্রথম ধাপে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে নির্বাচন করে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হবে। সফলতা অর্জনের পর তা ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত রোগী পরিবহনের জন্য তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এসব অ্যাম্বুলেন্সের নকশা ও প্রযুক্তিগত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং রোগী পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা সংযুক্ত থাকবে। ফলে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার রোগীরাও দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের বিকাশ ঘটবে, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে অ্যাম্বুলেন্স আমদানির প্রয়োজন কমে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন