বিশেষ প্রতিনিধি
১১ জুলাই ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে দেশীয় মাছ নিধনে অস্তিত্ব সংকটে

 

শিমুল তালুকদার, সদরপুর থেকেঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে এখন প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, বানার, রাক্ষুসে জাল, ভেশাল জাল ও বাঁশের বাঁধ। এসব জালে ও বাঁধে ধরা পড়ছে ছোট ছোট দেশীয় মাছ, রেনু-পোনা, এমনকি মাছের ডিমও। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্রুত কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই অবৈধ জাল ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী এ সকল জাল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ার পড়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দারী না থাকার কারনে দিন দিন বেড়েই চলছে নিশিদ্ধ জালের ব্যবহার। আর ক্রমেই ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আকোটেরচর স্লুইস গেট খালে বাশের বাঁধ দিয়ে নিচে রাক্ষুসী জাল পেতে চলছে মাছ শিকারের প্রস্তুতি। এছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুর তলা নদী ও ভাষাণচর ইউনিয়নের ভূবনেশ্বর নদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চায়না দুয়ারী, ভ্যাসাল, ও রাক্ষুসে জাল। অবিশ্বাস্য হলেও চিরসত্য যে, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার সহ যত্রতত্র খোলামেলা ভাবে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ। স্থানীয় মৎস্য দপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা মহোৎসবে মেতেছে পোনা মাছ নিধনে।

স্থানীয় জেলেরা হতাশা কন্ঠে জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নাই। চায়না দুয়ারী সব গিলে খাইছে। এই জালে মাছ তো দূরের কথা, পোনাও রক্ষা পায় না।

তারা জানান, চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে এতে মাছের পোনা থেকে শুরু করে জলজ প্রাণীরাও আটকে যায়। একবার পানিতে ফেলা হলে এ জাল থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য মাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।
মাঝে মধ্যে প্রসাশনের উদ্দোগে ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করে আড়া আড়ি বাধ, রাক্ষুসে জাল ও চায়না দোয়ারি ধ্বংশ করা হলেও সেটা থেকে যাচ্ছে অপ্রতুল্যের তালিকায়।

উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী ছলেনামা গ্রামের জেলে আজাহার শেখ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। আমাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি এবং চায়না দুয়ারী ও এ ধরনের অবৈধ জাল তৈরির উৎস বন্ধ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের জলিল মুন্সী জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মত মাছ নেই। নতুন পানি আসার সাথে সাথে চায়না দুয়ারীসহ বিভিন্ন রাক্ষুসে জাল দিয়ে রেনু-পোনা নিধন করা হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ পাওয়া যাবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন,

দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন
এমুনটাই প্রত্যাসা সদরপুর বাসীর।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পত্নীতলায় মধ্যরাতে পুলিশের ঝটিকা অভিযান কয়েক লক্ষ টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার, দুইজন গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে ‘ইচ্ছা প্রাণীর বাজারে’ প্রতিদিন মিলছে দেশীয় গরু, খাসি, হাঁস, মুরগি, কবুতর,ও কোয়েল পাখির মাংস

শতবর্ষের সরকারি সা’দত কলেজে আজ হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব

কৈজুরীতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

ফরিদপুরে ভাসানচর ছাত্র কল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সংবর্ধনা

চিকিৎসাসেবায় কোনো অনিয়ম ও অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিদেশের কারাগারে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি

চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সাগরে লঘুচাপ, বন্দরে সতর্কসংকেত বহাল

শনিবার ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১০

বালিয়াকান্দির নবনিযুক্ত ইউএনওকে বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক দলের শুভেচ্ছা

১১

নারীকে ডিজিটাল ও AI-সৃষ্ট সহিংসতা থেকে সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন

১২

সালথায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ 

১৩

নজিপুরে তিন দফা দাবিতে কার-মাইক্রো চালকদের ধর্মঘট

১৪

পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে সদরপুরের আদর্শ জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়: রক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

১৫

পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

১৬

সাংবাদিক রেজাউল করিমের কন্যা রাইশা আক্তার (রিয়ানার),র ৫ম তম জন্মদিন অনাড়ম্বর পরিবেশে পালিত

১৭

ফরিদপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

১৮

ফরিদপুরে যাত্রা শুরু মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুলের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য

১৯

ফরিদপুরে বিএসটিআইয়ের অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

২০