
রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলায় ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি প্রায় ৮০ কেজি চানাচুর ও প্রায় ৩৫ কেজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি এলাকায় বিএসটিআই, ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে হোগলাকান্দির মেসার্স এম.বি মাস্টার্ড ওয়েল মিলে উৎপাদিত সরিষার তেলের বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ না থাকায় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে মিথ্যা তথ্য ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে একই এলাকার সাদ ফুড প্রোডাক্টস পরিদর্শনকালে খাদ্য উৎপাদনে পোড়া তেল ও অনুমোদনহীন কালারিং এজেন্ট ব্যবহার, খাদ্যে শিল্পে ব্যবহারের লবণ প্রয়োগ, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া খাদ্য উৎপাদন এবং পণ্যের লেবেলে ভুল ও অসত্য তথ্য দেওয়ার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে নিম্নমানের কাঁচামাল ও ভেজাল মসলা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছত্রাকযুক্ত বাদাম, মরিচের গুঁড়ায় রঙ এবং ধনিয়ার গুঁড়ায় আটা ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকা, উৎপাদন ও সংরক্ষণ এলাকায় অপরিচ্ছন্নতা, খাদ্যপণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ না করা এবং পেস্ট কন্ট্রোল কার্যক্রমের রেকর্ড না থাকার মতো অনিয়মও শনাক্ত করা হয়।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি প্রায় ৮০ কেজি চানাচুর ও প্রায় ৩৫ কেজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট জব্দ করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়। পরে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় প্রসিকিউটর হিসেবে বিএসটিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক (মেট) মো. খালিদ হাসান এবং ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী মো. সাব্বির হোসেন পুলক উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআই ফরিদপুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল, নিম্নমানের ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন