
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করার লক্ষ্যে রাজশাহী জেলার সকল ধরনের কোচিং সেন্টার নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত বিবরণ:
স্মারক নম্বর: ০৫.৪৩.৮১০০.০০০.০২১.১৩.০০৪১.২৬.৩৬৯
তারিখ: ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ / ১২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিষয়: কোচিং সেন্টার বন্ধের গণবিজ্ঞপ্তি
গণবিজ্ঞপ্তি:
এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য ১১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালীন সকাল ০৯.০০ টা হতে বিকাল ০৪.০০ টা পর্যন্ত রাজশাহী জেলার সকল ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
স্বাক্ষরিত:
কাজী শহিদুল ইসলাম
জেলা প্রশাসক, রাজশাহী
ফোন: ০২৫৮৮৫৭০৫০ | ফ্যাক্স: ০২৫৮৮৫৫৮৮৫
ইমেইল: dcrajshahi@mopa.gov.bd
উক্ত নির্দেশনার অনুলিপি বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সহায়তার জন্য পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
নগরবাসীর ভাবনা ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ:
শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে কোচিং ব্যবসা বর্তমানে অন্যতম বড় একটি খাতে পরিণত হয়েছে। নগরীর অলিগলিতে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শিক্ষার্থীদের প্রায় প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা কোচিং সেন্টারে ছুটতে হচ্ছে, যা মূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করছে।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অভিভাবক ও সচেতন রাজশাহীবাসী। তারা মনে করছেন, সিদ্ধান্তটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা কোচিংমুখী প্রবণতা কমিয়ে মূল ক্লাসে মনোযোগী হবে।
তবে নগরবাসীর মতে, শুধু নির্দেশনা জারি করাই যথেষ্ট নয়; কোচিং সেন্টারগুলো তা যথাযথভাবে মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনকে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় এই নির্দেশনার সুফল শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাবে না।
মন্তব্য করুন