
রেজাউল করিম, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের বিরুদ্ধে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে টাকা গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে তিনি চেয়ারে বসে টাকা গুনে গ্রহণ করছেন। ভিডিওতে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “উনিও ৪০তম বিসিএস, আমিও ৪০তম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ইমরান শেখ দাবি করেন, এটি ঘুষের টাকা নয়, বরং তার ধার দেওয়া টাকা ফেরত নেওয়ার সময়কার ভিডিও। তার ভাষ্য, “অনেকেই আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, পরে তা ফেরত দেয়। এটি সেই রকম একটি ঘটনা।”
তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস।
জনমনে প্রশ্ন
ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন অভিযোগ নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ফলাফল জনসমক্ষে আসে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে রাখতে হবে, তারা জনগণের সেবক। দায়িত্ব পালনে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতা বজায় রাখাই একজন সরকারি কর্মচারীর প্রধান দায়িত্ব।
অন্যদিকে, সেবা প্রত্যাশীদেরও অন্যায়, অনিয়ম বা ঘুষের দাবি মেনে না নিয়ে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রমাণ সংরক্ষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাই হতে পারে পরিবর্তনের বড় শক্তি।
মোট কথা—যেখানেই অন্যায়, সেখানেই হোক প্রতিবাদের ঝড়। দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানই পারে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে।
মন্তব্য করুন