
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে জমি মাপজোককে কেন্দ্র করে সাংবাদিকসহ একই পরিবারের পাঁচজনের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মামলা নম্বর-৪৪, বার্ষিক নম্বর-৫৪৫ এবং এতে পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি জখম ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগে রুজু করা হয়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই ২০২৬ সকাল প্রায় ৯টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জমি মাপজোকের বিষয়ে স্থানীয়দের দাওয়াত দেওয়ার সময় মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে এবং গুরুতর জখম করে।
এ সময় ইউসুফ মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ছেলে মো. মাফিকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহাবুব মিয়ার ওপর লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এছাড়া ইউসুফ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও মেয়ে ঋতুকেও মারধর করে আহত করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে মাজেদ মিয়া, হাসেম মিয়া, সাব্বির মিয়া, নাজিম মিয়া ও কালাম মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলায় অংশ নেন।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবার কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করে। তবে মামলা দায়েরের পাঁচ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন