আফজাল হোসেন,ব্যুরো চিফ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে আলোচিত আলমগীর ও তার স্ত্রী বাচেনা বেগম প্রকাশ্যে মাদক থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল ৫টায় তালমা ইউনিয়নে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সচেতন নাগরিক এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. হাবিব মৃধার উপস্থিতিতে তারা এ অঙ্গীকার করেন।
এ সময় আলমগীর ও বাচেনা বেগম বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা আর কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকবো না। যদি কখনো এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হই, তাহলে সমাজ ও প্রশাসন যে শাস্তি দেবে তা মেনে নেব। এছাড়া আমাদের বাড়িতে কেউ মাদক সংগ্রহ করতে এলে আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে সহযোগিতা করবো।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে অনেক কিশোর ও যুবক মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মে প্রশাসনের সহযোগিতায় তালমা ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাউন্সেলিং, পরামর্শ এবং সামাজিকভাবে উদ্বুদ্ধ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিব মৃধা বলেন, “তালমাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। শুধু তালমা ইউনিয়ন নয়, পুরো নগরকান্দা উপজেলাকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠান শেষে এলাকাবাসী আলমগীরের বাড়িতে গোপনে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি সাঁকো ভেঙে দেন, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে সন্দেহজনক যাতায়াত বা মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না থাকে।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, সামাজিক সচেতনতা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগের মাধ্যমে তালমা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন