
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নং কৈজুরী ইউনিয়নের আকইন ভাটপাড়া গ্রামে মাহবুব নামে এক ব্যক্তির ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মাহবুব স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক মন্ডলের মেজো ছেলে। তিনি একজন পরিশ্রমী দিনমজুর হিসেবে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। সামান্য উপার্জনে স্ত্রীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন সুন্দর ভবিষ্যতের। কিন্তু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাহবুবের অপারেশনের পর তাঁকে কয়েক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েক ব্যাগ রক্ত লেগেছে বলেও জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশনে রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাহবুবের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। একদিকে স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে অনাগত সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে চরম মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মাহবুবের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে মাহবুবের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, মাহবুব সুস্থ হয়ে আবার পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন এবং তাঁর অনাগত সন্তান বাবার স্নেহ-ভালোবাসা নিয়ে পৃথিবীতে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
এখন মাহবুবের পরিবারের একটাই আকুতি—প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচুক, নিশ্চিত হোক সুচিকিৎসা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়বিচার।
মন্তব্য করুন