
রেজাউল করিম -ফরিদপুর
ফরিদপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন, মাদক ও অপরাধ দমন, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামছুল আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন,নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আব্দুল হালিম, সরকারি ইয়াছিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাতীন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ ঘোষাল, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হাফিজুর রহমান, সরকারি কৌঁসুলি মো. আশরাফ আলী, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তার, জেলা কারাগারের সুপার শওকত হোসেন মিয়া, জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার চন্দন দেবনাথ এবং বিআরটিএর সহকারী পরিচালক পলাশ খীশা সভায় অংশ নেন।
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম কাইয়ুম জঙ্গী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। এছাড়াও ফরিদপুর প্রেস ক্লাব এবং ফরিদপুর সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকসহ আরোও অন্যান্য বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক গনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জেলার সব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পূজামণ্ডপগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য বা প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা জেলার সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।