রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে জমি মাপজোককে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে একই পরিবারের অন্তত পাঁচজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহাবুব মিয়া গালিব। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাম্বুলখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জমি মাপজোকের বিষয়ে গ্রামবাসীকে অবহিত করতে গেলে মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার ছোট ছেলে মো. মাফিকের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহাবুব মিয়া গালিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাকেও লক্ষ্য করে লাঠিসোঁটা দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয়।
হামলাকারীদের আঘাত থেকে রক্ষা পাননি ইউসুফ মিয়ার স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও মেয়ে ঋতুও। তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনায় দালাল মাজেদ মিয়া (পিতা: নুরুজ্জামান), হাসেম মিয়া (পিতা: নুরুজ্জামান), সাব্বির মিয়া (পিতা: মাজেদ মিয়া), নাজিম মিয়া (পিতা: মাজেদ মিয়া) এবং কালাম মিয়া (পিতা: নুরুজ্জামান)-এর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈধ সম্পত্তি জবরদখল করে রাখা হয়েছে। আইনানুগভাবে জমি মাপজোকের মাধ্যমে নিজেদের জমি বুঝে নেওয়ার উদ্যোগ এবং গ্রামবাসীর কাছে ন্যায্য বিচার চাওয়াকেই কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালায়।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বৈধ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার পরও যদি একটি সাংবাদিকের পরিবার এভাবে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিক পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।