রেজাউল করিম, ফরিদপুর
ফরিদপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুর (এমসিএসএফ)। শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় ১৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিতে ইতোমধ্যে ইংরেজি ভার্সনে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
ক্যাডেট কলেজের আদলে পরিচালিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর সঙ্গে খেলাধুলা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বা ডিজিটাল লিটারেসিকেও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এমসিএসএফের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ জানান, গত ২৪ এপ্রিল অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১২ আগস্ট থেকে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়েছে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রতিষ্ঠানের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল ফরিদপুরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আখতার উস সামাদ রাফি বলেন, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করাই এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। যশোর সেনানিবাসের অধীনে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পরিবহন, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি ফরিদপুরের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষে ছাত্রীদের জন্য গার্লস উইং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এমসিএসএফের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন শেখ নাহিদ হাসান প্রত্যয়, এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন একাডেমিক ও আবাসিক স্থাপনা ঘুরিয়ে দেখানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে তোলা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়।