
রেজাউল করিম, ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, মাননিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সার্ভিল্যান্স ও স্কোয়াড অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এ সময় অভিযোগের ভিত্তিতে আজিজ ফুড প্রোডাক্টসের কানাইপুর বাজারস্থ তেলের মিল ও গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রস্তুতকৃত সয়াবিন তেল পাওয়া না গেলেও ‘S. B.’ ব্র্যান্ডের লেবেলযুক্ত কিছু সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যায়, যা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া ভবিষ্যতে সয়াবিন তেল উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানকালে সাদ ফুড প্রোডাক্টসকে চানাচুর, সিদ্দিকীয়া কনফেকশনারী অ্যান্ড সুইটসকে মিষ্টিজাত পণ্য এবং তাওয়াক্কুল লাইভ বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি শপ ও জে টি এফ লাইভ ফুডসকে ব্রেড পণ্যের জন্য বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কানাইপুর বাজারের আল মদিনা সুইটস, সুজন মিষ্টান্ন ভান্ডার, এম সিদ্দিকীয়া সুইটস, কৃষ্ণ বিষ্ণু মিষ্টান্ন ভান্ডার, নারু বিষ্ণু মিষ্টান্ন ভান্ডার, আদর্শ মিষ্টান্ন ভান্ডার, জননী দধি ভান্ডার, গৌর গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডার ও তামিম মিষ্টান্ন ভান্ডারসহ বিভিন্ন মিষ্টিজাত পণ্যের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে ফার্মেন্টেড মিল্ক (দই) ও সুইটমিট পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সিএম লাইসেন্স এবং মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে ‘প্যাকেটের ওজনসহ মিষ্টি বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্যাকেটের ওজন বাদ দিয়ে মিষ্টি ওজন করুন, আইন মেনে চলুন’ শীর্ষক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃশ্যমান স্থানে লিফলেট প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে ক্রেতারা পণ্যের প্রকৃত ওজন সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
বিএসটিআইয়ের ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিসপ্রধান ও উপপরিচালক মোঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন এবং প্রকৌশলী মোঃ সাব্বির হোসেন পুলক, ফিল্ড অফিসার (সিএম), অংশ নেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পণ্যের মান বজায় রাখা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।