
মোঃ ফজলুল হক,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবীরপুর চরে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর অব্যাহত গ্রাসে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ও প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে শত শত পরিবারের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষ। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অবশিষ্ট জনপদও পদ্মার ভাঙনে হারিয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করে নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় সেতু, সড়ক, ফসলি জমি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো যেসব ঘরবাড়ি ও জমি টিকে আছে, সেগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নিলে কবীরপুর চরের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে, ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আগে কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের জন্য কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, কেবল পরিকল্পনা নয়, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অবশিষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।