রেজাউল করিম, ফরিদপুর:
ফরিদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকা ভাঙ্গা রাস্তার মোড়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এবং বাগাট খোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রী, পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত স্ট্যান্ডের বাইরে রাস্তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছোট-বড় যানবাহনকে যানজটের মধ্যে আটকে থাকতে হয়। কর্মজীবী মানুষ, রোগীবাহী যানবাহন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সবাইকে প্রতিনিয়ত সময় নষ্ট ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে ভাঙ্গা রাস্তার উত্তর পাশে অবস্থিত সারদা সুন্দরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় যানজট ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করছে। অভিভাবকদের ভাষ্য, এ অবস্থা দীর্ঘদিন চললেও কার্যকর কোনো সমাধান চোখে পড়ছে না।
পথচারীদের দাবি, ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনেই এভাবে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকলেও নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগে ঘাটতি রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর হলে এবং অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে রাখা অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ সমস্যার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলেই চলবে না; ফরিদপুর পৌরসভারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পনা ছাড়াই অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স বা অনুমোদন দেওয়ার ফলে শহরের সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পর্যাপ্ত স্ট্যান্ড, পার্কিং ব্যবস্থা ও কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়ায় যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, ট্রাফিক বিভাগ, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নির্ধারিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিশ্চিত করা, রাস্তার ওপর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নগর পরিকল্পনার আলোকে যানবাহন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও যাত্রীসাধারণের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে ফরিদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত হয় এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।