মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহী :
আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনের যুগেও শত বছরের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে সগৌরবে টিকে আছে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক কেশরহাটের বাঁশ ও মাছের হাট। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জনপদের মাটি ও মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের সুপ্রাচীন এই শিল্প।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রোজ বুধবার সরেজমিন কেশরহাটে গিয়ে দেখা যায় এক প্রাণবন্ত ও ব্যস্ত গ্রামীণ চিত্র। ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি মূলত সপ্তাহের দুই দিন—শনিবার ও বুধবার বসে। তবে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এতটাই গভীর যে, নির্দিষ্ট বারের বাইরেও এখানকার কর্মচাঞ্চল্য প্রতিদিন লক্ষ্য করা যায়।
হাটে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা রঙের গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পণ্য। কুলা, চালুন, ডালি, খাঁচা, মোড়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। আধুনিক প্লাস্টিকের পণ্যের সস্তা ও সহজলভ্যতার যুগেও গ্রামীণ জনপদের মানুষ আজও পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং ঐতিহ্যবাহী এসব পণ্যের টানে নিয়মিত ছুটে আসেন এই হাটে।
কেশরহাটের আরেকটি প্রধান ঐতিহ্য ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো এর বিশাল মাছের বাজার। সরেজমিন দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমাণ তাজা মাছের আমদানি হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মাছ প্রতিদিন ট্রাকে ও বিভিন্ন যানবাহনে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ বা রপ্তানি করা হয়। পাইকার, আড়তদার ও খুচরা ক্রেতাদের দরদাম আর হাঁকডাকে মুখরিত থাকে পুরো মাছ বাজার এলাকা।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কেশরহাট কেবল মোহনপুর উপজেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। রাজশাহী জেলার তানোর, মোহনপুর, দুর্গাপুর, বাগমারা এবং পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনে এই হাটে আসেন। নির্দিষ্ট হাটবারের বাইরেও প্রতিদিন এই বাজারে শত শত মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে, যা একে একটি প্রাণবন্ত বাণিজ্যিক জনপদে রূপ দিয়েছে।
শতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির শেকড়কে ধারণ করে কেশরহাটের এই হাট আজও টিকে আছে তার স্বকীয় মহিমায়। আধুনিকতার ভিড়েও হারিয়ে না গিয়ে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।