মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহী :
রাজশাহীর মোহনপুরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় ওয়াকিটকিসহ জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিদিরপুর সরকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জামিল উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মকসেদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিদিরপুর সরকারপাড়া এলাকায় পুলিশের পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় সন্দেহজনক আচরণে স্থানীয়রা জামিলকে আটক করেন। এ সময় তাকে তল্লাশি করে চাঁদাবাজির ৯ হাজার ২০০ টাকা, একটি ওয়াকিটকি, পুলিশের ব্যবহৃত লাইট ও সিগন্যাল লাইট জব্দ করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে মাসোহারা আদায় করতেন। নির্ধারিত সময়ে মাসোহারা না দিলেই সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা তকমা লাগানো বা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তার এই অপতৎপরতা অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি থানা পুলিশের দু-এক কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে তাদের সঙ্গে সখ্যতার দাবি করেন।
এদিকে জামিলকে আটকের পর পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তারা কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন এবং জামিলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার বলেন, স্থানীয়রা জামিলকে আটক করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।