প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক, রেজাউল করিম
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের হয়রানি, মানহানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এ ধরনের ডিজিটাল ও AI-সৃষ্ট সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ।
এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে বক্তারা নারীদের জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নারীদের দৈনন্দিন অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘Dhaka Dialogue’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল ও AI-সৃষ্ট সহিংসতা প্রতিরোধে অভিন্ন সংজ্ঞা, মানদণ্ড ও কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল সহিংসতার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে নারীদের হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালাকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা বাড়ানো জরুরি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।