রেজাউল করিম
ফরিদপুর সদর উপজেলার পূর্ব খাবাশপুর সবজাননেসা মহিলা কামিল এমএ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, অসদাচরণ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ তুলে তার দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষর নকল করার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উদ্ধারের কথাও জানান তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ক্লাস চলাকালে অধ্যক্ষ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের শরীরে হাত দিতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ থেকে বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, সেখান থেকে কফ সিরাপ ২ বোতল, যৌন উত্তেজক সিরাপ ৩ বোতল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ৬টি, জিনটোন ১ বক্স, ৪ প্যাকেট, সেডিল ট্যাবলেট ২ পাতা এবং গুল ১২টি পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মো. আমিনুল ইসলাম এসব সামগ্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দেখান। তিনি জানান, সামগ্রীগুলো অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসাইনের ব্যবহৃত ড্রয়ারে তালাবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে সেগুলো বের করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সবজাননেসা মহিলা কামিল এমএ মাদ্রাসায় বর্তমানে মোট ৩০ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন পুরুষ শিক্ষক ও ১৪ জন নারী শিক্ষক। এছাড়া রয়েছেন ৭ জন কর্মচারী। মাদ্রাসাটিতে মোট ৫২২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার মধ্যে ৭০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।